Wednesday, May 27, 2026

বাংলা সাহিত্য

বাঙালি এক সময় উন্নতি করেছিল। কেন করেছিল? রাজনীতি করে নয়, দলাদলি করে নয়, ধর্মান্ধতা দিয়ে নয়। বাঙালি সাহিত্যের আদর করতে শিখেছিল, লেখককে শ্রদ্ধা করেছিল। আমি আমার ছেলেবেলায় এই সব বই পড়ে বড় হয়েছি। আমি ইংরেজি জানতাম না, এখনও ভালো করে জানি না। আমি এই সব কালজয়ী লেখকদের চিনেছিলাম বাংলা অনুবাদের মাধ্যমে। পৃথিবীর খুব কম ভাষায় এত বড় সাহিত্যের সম্ভার আছে।

ব্যাঙ্কিম লিখেছেন।
“আজ বঙ্গভূমির উন্নতি সম্বন্ধে আর আমরা সংশয় করি না— এই ভূখণ্ডে বাঙালী জাতির গৌরব হইবে। কেন না বঙ্গদেশ রোদন করিতে শিখিয়াছে—অকপটে বাঙালী, বাঙালী কবির জন্য রোদন করিতেছে। যে দেশে একজন সুকবি জন্মে, সে দেশের সৌভাগ্য। যে দেশে সুকবি যশঃপ্রাপ্ত হয়, সে দেশের আরও সৌভাগ্য।.... যে দেশের শ্রেষ্ঠ কবি যশস্বী হইয়া জীবন সমাপন করেন, সে দেশ প্রকৃত উন্নতির পথে দাঁড়াইয়াছে। মাইকেল মধুসূদন দত্ত যে যশস্বী হইয়া মরিয়াছেন, ইহাতে বোঝা যায় যে, বাঙালা দেশ উন্নতির পথে দাঁড়াইয়াছে।.... যদি কোন আধুনিক এশ্বর্য্য-গর্বিত ইউরোপীয় আমাদিগের জিজ্ঞাসা করেন, তোমাদের আবার ভরসা কি?—বাঙালীর মধ্যে মনুষ্য জন্মিয়াছে কে? আমরা বলিব, ধর্মোপদেশকের মধ্যে শ্রীচৈতন্যদেব, দার্শনিকের মধ্যে রঘুনাথ, কবির মধ্যে শ্রীজয়দেব ও শ্রীমধুসূদন।.... ভিন্ন ভিন্ন দেশে জাতীয় উন্নতির ভিন্ন ভিন্ন সোপান। বিদ্যালোচনার কারণেই প্রাচীন ভারত উন্নত হইয়াছিল, সেই পথে আবার চল, আবার উন্নত হইবে। কাল প্রসন্ন—ইউরোপ সহায়—সুপবন বহিতেছে দেখিয়া, জাতীয় পতাকা উড়াইয়া দাও—তাহাতে নাম লেখ ‘শ্রীমধুসূদন’।”

আমি যখন ছোট ছিলাম, বোকা ছিলাম, তখন ভাবতাম সাহিত্য নিয়ে কী হবে। বিজ্ঞান পড়লেই সব শেখা যায়। আজ বুড়ো বয়সে বুঝেছি সাহিত্য ছাড়া জীবন অসম্পূর্ণ। যদি শিক্ষিত হতে চাও তবে সাহিত্য পড়ো, কালজয়ী সাহিত্য পড়ো। একখানা ভালো বই সমাজ পাল্টে দিতে পারে, একখানা ভালো কবিতা বিপ্লব আনতে পারে। মানুষের জীবনের সব উন্নতির পেছনে আছে কালজয়ী সাহিত্য। আজ বুঝেছি নিউটন-গ্যালিলিওর মতো রুশো-হুগোও আমাদের জীবনে অনিবার্য।

আজ বাঙালি পড়তে ভুলেছে, লেখা ছেড়েছে, ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম আর রাজনীতিতে মেতেছে। বাঙালির অধঃপতন কে আটকাবে?

A nice article on Hugo

My first and only book review

No comments: